হোটেল ব্যবসায় কর্মীদের ধরে রাখার ৫টি অপ্রকাশিত কৌশল যা আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে

webmaster

호텔 경영의 인사 관리 - **Prompt 1: The Heart of Hospitality - Happy Staff, Delighted Guests**
    A bright, inviting scene ...

পর্যটন এবং আতিথেয়তা শিল্পে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম। এই শিল্প এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে মানুষের দক্ষতা, আচরণ এবং অভিজ্ঞতা সরাসরি গ্রাহকদের সন্তুষ্টির ওপর প্রভাব ফেলে। আজকাল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগেও, হোটেলের সাফল্যের পেছনে কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একজন প্রশিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত কর্মীই পারে একজন অতিথিকে বারবার ফিরিয়ে আনতে, যা সরাসরি ব্যবসার লাভজনকতা বাড়াতে সাহায্য করে।আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি যখন বিভিন্ন হোটেল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করি, তখন দেখি যেসব হোটেল কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা এবং একটি সুন্দর কাজের পরিবেশ দেয়, তাদের অতিথিদের রিভিউ সবসময়ই ইতিবাচক হয়। কর্মীরা যদি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অংশ মনে করে, তাহলে তারা কেবল কাজ করে না, বরং হৃদয় দিয়ে সেবা দেয়। বর্তমান সময়ে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ পরবর্তী পৃথিবীতে, হোটেল শিল্পে কর্মীদের ধরে রাখা এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের যুগোপযোগী করে তোলা এখন আর শুধু একটি বিকল্প নয়, এটি একটি আবশ্যিক বিষয়।সামনের দিনগুলোতে হোটেল ব্যবস্থাপনার মানব সম্পদ বিভাগকে আরও অনেক উদ্ভাবনী কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যেমন, AI-চালিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে কর্মীদের কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণ করা, কাজের পরিকল্পনা আরও সুসংগঠিত করা এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করা। এর ফলে কর্মীরা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চলুন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

কর্মীদের হাসি, গ্রাহকের তৃপ্তি: কেন মানব সম্পদ এত গুরুত্বপূর্ণ?

호텔 경영의 인사 관리 - **Prompt 1: The Heart of Hospitality - Happy Staff, Delighted Guests**
    A bright, inviting scene ...

আতিথেয়তা শিল্প মানেই মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক। এখানে একদল হাসিখুশি, প্রশিক্ষিত কর্মী ছাড়া কোনো হোটেলই সত্যিকারের সাফল্য পেতে পারে না, এটা আমার বহুদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। আপনি যত আধুনিক প্রযুক্তিই ব্যবহার করুন না কেন, গেস্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য, তাদের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য কিংবা একটি নিখুঁত সেবা দেওয়ার জন্য একজন মানুষের স্পর্শই দরকার। কর্মীদের মধ্যে যদি এক ধরনের আন্তরিকতা আর সেবার মানসিকতা থাকে, তবে সেটা অতিথিদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। আমি দেখেছি, যখন কর্মীরা নিজেদের কাজের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে, তখন তাদের সেই ইতিবাচক শক্তি গেস্টদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। তাদের প্রতিটি কথায়, প্রতিটি ছোট ছোট কাজে সেই ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটে। তাই মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র নিয়োগ আর বেতন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটা আসলে প্রতিষ্ঠানের আত্মা নির্মাণ করার মতো। কর্মীদের ভালোভাবে যত্ন নিলে, তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বস্ত হয় এবং সেই বিশ্বস্ততা তাদের কাজের মাধ্যমে ফুটে ওঠে, যা সরাসরি গ্রাহকদের সন্তুষ্টির ওপর প্রভাব ফেলে। আজকাল গেস্টরা শুধু ভালো রুম আর খাবার চায় না, তারা চায় একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, যেখানে তারা নিজেদের বিশেষ মনে করতে পারে। আর এই বিশেষ অনুভূতিটা দিতে পারে কেবলমাত্র প্রশিক্ষিত এবং অনুপ্রাণিত কর্মীরাই। আমার মনে হয়, যেকোনো হোটেল বা রিসোর্টের প্রকৃত সম্পদ তার কর্মীরাই।

গ্রাহক অভিজ্ঞতার মূল ভিত্তি

আপনি যদি কোনো হোটেলের ওয়েবসাইটে বা রিভিউ সাইটে চোখ বুলান, দেখবেন অধিকাংশ ইতিবাচক মন্তব্য আসে কর্মীদের অমায়িক ব্যবহার বা দ্রুত সেবার কারণে। এর কারণ হলো, গ্রাহকরা যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তখন সেই সমস্যা সমাধানের জন্য একজন মানবিক সমাধানকারীকেই খোঁজেন। একজন কর্মী যদি গেস্টের চাহিদা বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেন, তাহলে সেটা তাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ভালোলাগার জন্ম দেয়। আমরা অনেক সময় বড় বড় সুযোগ-সুবিধা দেখি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের মনে গেঁথে থাকে একজন কর্মীর আন্তরিক হাসি বা অপ্রত্যাশিত কোনো সাহায্য। ব্যক্তিগতভাবে, আমি এমন অনেক হোটেলে গেছি যেখানে সবকিছু খুব সুন্দর হলেও কর্মীদের আচরণ ভালো না হওয়ায় ফিরে আসার ইচ্ছে হয়নি। আবার অনেক ছোট হোটেল আছে, যেখানে হয়তো তেমন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নেই, কিন্তু কর্মীদের অসাধারণ ব্যবহারের কারণে বারবার যেতে ইচ্ছে করে। এটাই হলো মানব সম্পদের আসল শক্তি।

কর্মীদের মনস্তত্ত্ব বোঝা

কর্মীদের মন বোঝাটা মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কর্মীরা শুধু বেতন বা ছুটি চায় না, তারা চায় তাদের কাজের মূল্যায়ন হোক, তাদের কথা শোনা হোক এবং তারা যেন প্রতিষ্ঠানে একটি নিরাপদ পরিবেশ পায়। যখন একজন কর্মী বুঝতে পারে যে তার প্রতিষ্ঠান তার পাশে আছে, তখন সেও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করে। আমার মনে হয়, কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে কর্মজীবীদের মধ্যে মানসিক চাপ অনেক বেড়েছে। তাই হোটেল কর্তৃপক্ষকে কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং সেশন বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা উচিত। এতে কর্মীরা মানসিক শান্তি নিয়ে কাজ করতে পারবে এবং তাদের কাজের মানও উন্নত হবে।

বদলে যাওয়া বিশ্বের সাথে কর্মীদের প্রস্তুতি: প্রশিক্ষণের জাদু

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে টিকে থাকতে হলে কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। আমি নিজে দেখেছি, যখন নতুন কোনো প্রযুক্তি বা সেবার ধরণ আসে, তখন যেসব হোটেল তাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করে তোলে, তারা অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষিত কর্মীরা আত্মবিশ্বাসী হয় এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে ভয় পায় না। তাদের মধ্যে কাজের প্রতি আরও বেশি আগ্রহ তৈরি হয়। ধরুন, একটি নতুন সফটওয়্যার এলো গেস্ট চেক-ইন এর জন্য, যদি কর্মীরা আগে থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে যায়, তাহলে তারা দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে কাজটি করতে পারবে, ফলে গেস্টদেরও কোনো অসুবিধা হবে না। প্রশিক্ষণ শুধু নতুন দক্ষতা শেখায় না, এটি কর্মীদের মনোবলও বাড়ায় এবং তাদের মধ্যে নিজেদের পেশার প্রতি এক ধরনের সম্মানবোধ তৈরি করে। আমার মনে হয়, প্রশিক্ষণকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত, কেবল নতুন কর্মীদের জন্য নয়, বরং সব স্তরের কর্মীদের জন্যই এর ব্যবস্থা থাকা উচিত। এর মাধ্যমে কর্মীরা নিজেদেরকে আপডেটেড রাখতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।

নতুন দক্ষতার প্রয়োজন

পর্যটন শিল্পে প্রায়শই নতুন প্রবণতা এবং প্রযুক্তি আসে। যেমন, এখন অনেক হোটেল চ্যাটবট বা এআই ব্যবহার করে গ্রাহক সেবা দিচ্ছে। যদি কর্মীরা এই নতুন সরঞ্জামগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা না জানে, তাহলে তারা পিছিয়ে পড়বে। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যখন আমি কোনো হোটেলে ডিজিটাল চেক-ইন বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রুম সার্ভিসের মতো সুবিধা ব্যবহার করি, তখন যদি কর্মীরা এসব বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকে, তাহলে পুরো অভিজ্ঞতাটাই খারাপ হয়ে যায়। তাই কর্মীদের জন্য ভাষা দক্ষতা, ডিজিটাল দক্ষতা, সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের মতো বিষয়গুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এতে তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে গেস্টদের আরও ভালোভাবে সাহায্য করতে পারবে এবং অপ্রত্যাশিত সমস্যাগুলোও দক্ষতার সাথে সামলাতে পারবে।

প্রযুক্তির সাথে তাল মেলানো

প্রযুক্তি এখন আতিথেয়তা শিল্পের প্রতিটি অংশে মিশে গেছে। স্মার্ট রুম থেকে শুরু করে অনলাইন বুকিং পোর্টাল, এমনকি কর্মীদের কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণের জন্যও প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, কর্মীদের যদি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকে, তাহলে তারা তাদের কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারবে না। আমার মতে, প্রতিটি হোটেলকেই তাদের কর্মীদের জন্য নিয়মিত প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা উচিত। এতে কর্মীরা কেবল আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হবে না, বরং তারা আরও দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে কাজ করতে শিখবে। যারা প্রযুক্তি ব্যবহারে সাবলীল, তারা আরও আত্মবিশ্বাসী বোধ করে এবং তাদের কাজের মানও উন্নত হয়।

Advertisement

শুধু কাজ নয়, কর্মীদের হৃদয় জয় করা: মোটিভেশনের রহস্য

কর্মীদের শুধু বেতন দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া যায় না, এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছি। তাদের হৃদয় জয় করতে হয়, তাদের অনুপ্রাণিত করতে হয়, যাতে তারা মন থেকে কাজ করে। অনুপ্রেরণা হলো সেই অদৃশ্য শক্তি যা একজন কর্মীকে তার সেরাটা দিতে উৎসাহিত করে। আমার মনে হয়, যখন একজন কর্মী বুঝতে পারে যে তার কাজকে মূল্য দেওয়া হচ্ছে, তখন সে আরও বেশি নিবেদিতপ্রাণ হয়ে ওঠে। বেতন বা সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজের পরিবেশে সম্মান, স্বীকৃতি এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ। অনেক সময় দেখা যায়, ছোট একটি প্রশংসাও বড় একটি বোনাসের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়। কর্মীদের মতামত শোনা, তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করা, এবং তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করা—এগুলো সবই অনুপ্রেরণার অংশ। যখন কর্মীরা আনন্দ নিয়ে কাজ করে, তখন সেই আনন্দ তাদের সেবার মাধ্যমে গেস্টদের কাছেও পৌঁছে যায়।

অভ্যন্তরীণ প্রেরণা

মানুষ যখন নিজের ইচ্ছেতে কোনো কাজ করে, তখন তার ফল সব সময়ই ভালো হয়। কর্মীদের মধ্যেও এই অভ্যন্তরীণ প্রেরণা তৈরি করা খুব জরুরি। কীভাবে করা যায়? তাদের কাজের স্বাধীনতা দিয়ে, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশীদার করে। যখন একজন কর্মী অনুভব করে যে তার নিজের কিছু করার সুযোগ আছে, তার আইডিয়াগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন সে আরও বেশি উদ্ভাবনী হয়ে ওঠে। আমি এমন অনেক ছোট ছোট হোটেল দেখেছি, যেখানে হয়তো বাজেট কম, কিন্তু কর্মীদের মধ্যে এক অসাধারণ উদ্দীপনা কাজ করে, কারণ তারা জানে তাদের কথা শোনা হয়, তাদের কাজের মূল্যায়ন করা হয়। এই ধরনের ইতিবাচক কাজের পরিবেশ কর্মীদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার আগ্রহ তৈরি করে।

কাজের স্বীকৃতি ও পুরস্কার

যেকোনো ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি ও পুরস্কার কর্মীদের আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করে। সেটা হতে পারে মাসের সেরা কর্মীর পুরস্কার, বা কোনো প্রজেক্টে সাফল্যের জন্য একটি ছোট উপহার। এমনকি একটি মৌখিক প্রশংসাও অনেক সময় কর্মীদের জন্য বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, যখন কোনো কর্মী তার প্রচেষ্টার জন্য স্বীকৃতি পায়, তখন সে কেবল নিজেই উৎসাহিত হয় না, বরং তার সহকর্মীরাও অনুপ্রাণিত হয়। এতে পুরো টিমের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এই স্বীকৃতি কেবল আর্থিক হওয়া জরুরি নয়, কাজের শেষে একটি ধন্যবাদ বা একটি প্রশংসা সূচক মেইলও কর্মীদের জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে।

নতুন প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ: প্রযুক্তির সাথে মানব সম্পদের মিলন

আজকের দিনে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র নিয়োগ আর বেতন প্রক্রিয়াকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স মানব সম্পদ বিভাগকে আরও স্মার্ট এবং কার্যকর করে তুলছে। আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার হোটেল শিল্পে কর্মীদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং একটি সুষম কাজের পরিবেশ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যেমন, এআই-চালিত টুলস ব্যবহার করে কর্মীদের কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণ করা, প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা, এমনকি কর্মীদের সন্তুষ্টির মাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকরা আরও ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং কর্মীদের জন্য আরও ব্যক্তিগতকৃত অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারেন। তবে, এই প্রযুক্তির ব্যবহার যেন মানবিক স্পর্শকে নষ্ট না করে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ আতিথেয়তা শিল্প শেষ পর্যন্ত মানবিক ইন্টারঅ্যাকশনের ওপরই নির্ভরশীল।

এআই-এর ভূমিকা

এআই এখন কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে তাদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এআই-চালিত চ্যাটবটগুলো কর্মীদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, এতে মানব সম্পদ বিভাগের সময় বাঁচে এবং কর্মীরাও দ্রুত তথ্য পায়। এছাড়া, এআই কর্মীর দক্ষতার ফাঁকগুলো চিহ্নিত করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুপারিশ করতে পারে। তবে, এআই কেবল একটি সরঞ্জাম, এটি মানুষের বিকল্প হতে পারে না। কর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা এবং তাদের সমস্যাগুলো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা—এটা এআই কখনোই করতে পারবে না। তাই প্রযুক্তির সাথে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং সহানুভূতির একটি সুন্দর সমন্বয় ঘটানো জরুরি।

ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ

মানব সম্পদ ডেটা বিশ্লেষণ এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কর্মীদের টার্নওভার রেট, প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা, কর্মীর সন্তুষ্টির মাত্রা—এসব ডেটা বিশ্লেষণ করে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের মানব সম্পদ কৌশল আরও উন্নত করতে পারে। আমার মনে হয়, যখন কোনো প্রতিষ্ঠান ডেটার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা আরও কার্যকর এবং সুচিন্তিত হয়। যেমন, যদি ডেটা দেখায় যে কোনো নির্দিষ্ট বিভাগে কর্মীদের টার্নওভার বেশি, তাহলে কর্তৃপক্ষ সেই কারণগুলো খুঁজে বের করে সমাধানের ব্যবস্থা নিতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু কর্মীদের ধরে রাখাই সহজ হয় না, বরং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

Advertisement

হোটেল শিল্পের সাফল্যের চাবিকাঠি: সঠিক নিয়োগ এবং ধরে রাখা

একটি হোটেলের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার কর্মীরা। আর সঠিক কর্মী নির্বাচন করা এবং তাদের ধরে রাখাটা মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শুধুমাত্র দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করলে হবে না, দেখতে হবে প্রার্থী হোটেলের সংস্কৃতি এবং কাজের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে কিনা। কারণ, আতিথেয়তা শিল্পে ব্যক্তিগত গুণাবলী, যেমন – ধৈর্য, সহানুভূতি, যোগাযোগ দক্ষতা – এগুলো শিক্ষাগত যোগ্যতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের ধরে রাখা আরও বেশি কঠিন, বিশেষ করে আজকের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে। ভালো কর্মীদের হারিয়ে ফেললে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি করে না, বরং বাকি কর্মীদের মনোবলও ভেঙে দেয়। তাই কর্মীদের ধরে রাখার জন্য শুধু ভালো বেতন নয়, আরও অনেক কিছু দরকার।

সেরা প্রতিভা নির্বাচন

সঠিক কর্মী নির্বাচন করার জন্য মানব সম্পদ বিভাগকে অনেক বিচক্ষণ হতে হয়। শুধু জীবনবৃত্তান্ত দেখে নয়, প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত গুণাবলী এবং কাজের প্রতি আগ্রহ যাচাই করা উচিত। আমার মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া এমন হওয়া উচিত যেখানে প্রার্থীরাও প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের জন্য এটি সঠিক জায়গা কিনা তা বুঝতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, দ্রুত কর্মী নিয়োগের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলস্বরূপ পরে অনেক সমস্যা তৈরি হয়। তাই সময় নিয়ে, ভালোভাবে যাচাই করে সেরা প্রার্থী নির্বাচন করা উচিত।

কর্মীদের ধরে রাখার কৌশল

호텔 경영의 인사 관리 - **Prompt 2: Modern Hospitality - Empowered Through Technology Training**
    Inside a sleek, contemp...

কর্মীদের ধরে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানকে তাদের যত্ন নিতে হবে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যেসব হোটেল কর্মীদের জন্য ক্যারিয়ারের উন্নতির সুযোগ দেয়, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, এবং একটি ইতিবাচক কাজের পরিবেশ তৈরি করে, তারা কর্মীদের ধরে রাখতে বেশি সফল হয়। এছাড়া, কর্মীদের স্বাস্থ্য বীমা, অবসর সুবিধা, এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কর্মসূচীও কর্মীদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সর্বোপরি, কর্মীদের মনে এই অনুভূতি তৈরি করা যে তারা কেবল কর্মচারী নয়, বরং একটি পরিবারের অংশ—এটাই সবচেয়ে বড় কৌশল।

কাজের পরিবেশ যেমন হওয়া উচিত: সুস্থ সংস্কৃতি ও কর্মীদের মঙ্গল

একটি সুস্থ কাজের সংস্কৃতি এবং কর্মীদের মঙ্গল নিশ্চিত করা যেকোনো সফল হোটেলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমি মনে করি, কাজের পরিবেশ কেবল শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও কর্মীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হওয়া উচিত। যেখানে কর্মীরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে ভয় পায় না, যেখানে তাদের প্রতি অবিচার করা হয় না, এবং যেখানে তারা নিজেদেরকে সুরক্ষিত মনে করে—সেখানেই একটি সুস্থ কাজের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এই ধরনের পরিবেশে কর্মীরা কেবল তাদের সেরাটা দেয় না, বরং তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আরও বেশি আনুগত্য অনুভব করে। একটি ভালো কাজের পরিবেশ কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহক সেবার মান উন্নত করে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, একটি প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের সাথে যেভাবে আচরণ করে, কর্মীরাও গ্রাহকদের সাথে ঠিক সেভাবেই আচরণ করে।

মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা

বর্তমান সময়ে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যা এবং কোভিড-১৯ মহামারীর মতো পরিস্থিতি কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আমার মতে, হোটেল কর্তৃপক্ষকে কর্মীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা উচিত, যেমন – কাউন্সেলিং সেশন, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্কশপ বা হেল্পলাইন পরিষেবা। যখন কর্মীরা জানে যে তাদের প্রতিষ্ঠান তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল, তখন তারা আরও বেশি স্বস্তিবোধ করে এবং তাদের কাজের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হতে পারে। এতে কর্মীদের মধ্যে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং তাদের কাজের মানও উন্নত হয়।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতি

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজের সংস্কৃতি মানে হলো, যেখানে প্রতিটি কর্মীকে তাদের জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, বা বয়স নির্বিশেষে সমান সম্মান ও সুযোগ দেওয়া হয়। আমার মনে হয়, এই ধরনের সংস্কৃতি একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কর্মীদের মধ্যে বৈচিত্র্য এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা উৎসাহিত করে। যখন কর্মীরা অনুভব করে যে তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে কাজ করছে, তখন তারা নিজেদেরকে আরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশ মনে করে এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কর্মীরা যখন একসাথে কাজ করে, তখন তারা নতুন নতুন ধারণা নিয়ে আসে এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নতিতে সহায়ক হয়।

Advertisement

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে: মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত

পর্যটন এবং আতিথেয়তা শিল্পে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং। আমি মনে করি, আগামী দিনে মানব সম্পদ বিভাগকে আরও অনেক উদ্ভাবনী এবং প্রগতিশীল কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো প্রযুক্তিগুলি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রভাব ফেলবে। তবে, এই প্রযুক্তির ব্যবহার যেন মানবিক স্পর্শকে কোনোভাবেই ম্লান না করে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। কারণ এই শিল্পে মানুষের সাথে মানুষের সংযোগই সবচেয়ে বড় শক্তি। কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং একটি সহায়ক কাজের পরিবেশ তৈরি করা—এগুলো ভবিষ্যতেও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রধান স্তম্ভ হয়ে থাকবে। আমার বিশ্বাস, যে হোটেলগুলো কর্মীদের মূল্য দেবে এবং তাদের উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে, তারাই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকবে এবং সাফল্য লাভ করবে।

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক গুরুত্বপূর্ণ দিক হোটেল শিল্পে প্রভাব
নিয়োগ ও নির্বাচন সঠিক দক্ষতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মানানসই প্রার্থী সেবার মান উন্নত হয়, গেস্ট সন্তুষ্টি বাড়ে
প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন নিয়মিত দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কর্মীরা আত্মবিশ্বাসী হয়, আধুনিক সেবার সাথে তাল মেলায়
কর্মীর প্রেরণা ও জড়িতকরণ স্বীকৃতি, প্রশংসা ও অনুকূল কাজের পরিবেশ কর্মীরা নিবেদিতপ্রাণ হয়, টার্নওভার কমে
পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট নিয়মিত মূল্যায়ন ও গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া কর্মীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়
কল্যাণ ও মানসিক স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য সহায়তা ও চাপমুক্ত কাজের পরিবেশ কর্মীরা সুস্থ ও উৎপাদনশীল থাকে, প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বাড়ে

উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণ

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণ করা এখন আর কেবল একটি বিকল্প নয়, এটি একটি আবশ্যকতা। কর্মীদের ধরে রাখতে এবং নতুন প্রতিভাদের আকৃষ্ট করতে হলে প্রতিষ্ঠানকে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, ফ্লেক্সিবল কাজের সময়সূচি, দূরবর্তী কাজের সুযোগ (যদি সম্ভব হয়), এবং কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগতকৃত উন্নয়ন পরিকল্পনা—এসব নতুন প্রজন্মের কর্মীদের কাছে খুব আকর্ষণীয়। এগুলি কর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে এবং তাদের আরও বেশি দায়বদ্ধ করে তোলে। নতুন কৌশলগুলি গ্রহণ করার মাধ্যমে মানব সম্পদ বিভাগ কেবল কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে না, বরং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনেও সহায়তা করে।

কর্মীদের ক্ষমতায়ন

কর্মীদের ক্ষমতায়ন মানে হলো তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশীদার করা এবং তাদের কাজের প্রতি মালিকানা বোধ তৈরি করা। আমার মনে হয়, যখন কর্মীদের হাতে তাদের কাজ পরিচালনার কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তখন তারা আরও বেশি দায়িত্বশীল হয় এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্ব গুণাবলী বিকশিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ফ্রন্ট ডেস্ক কর্মীদের যদি কিছু ছোটখাটো গ্রাহক সমস্যার সমাধানের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং গেস্টদের অভিজ্ঞতা আরও মসৃণ হবে। এটি কেবল কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় না, বরং প্রতিষ্ঠানের অপারেশনাল দক্ষতাও বৃদ্ধি করে। ক্ষমতায়িত কর্মীরা নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে এবং তাদের সেরাটা দিতে উৎসাহিত হয়।

글কে বিদায়

এই যে এতক্ষণ ধরে মানব সম্পদ নিয়ে এত কথা বললাম, আমার আসল উদ্দেশ্য ছিল এটাই বোঝানো যে, একটি হোটেলের ইঁট-কাঠ, সুন্দর ডিজাইন, বা বিলাসবহুল সুবিধা সবই গৌণ হয়ে যায় যদি তার কর্মীরা খুশি না থাকে। আমি নিজের চোখে দেখেছি, আন্তরিক আর নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা যেকোনো অতিথিকে আপন করে নিতে পারে, যা কোনো প্রযুক্তি বা সুবিধা দিয়ে সম্ভব নয়। মনে রাখবেন, আপনার কর্মীরাই আপনার ব্র্যান্ডের মুখ, আপনার হোটেলের প্রাণ। তাদের প্রতি বিনিয়োগ মানেই আপনার ভবিষ্যতের প্রতি বিনিয়োগ, এবং এই বিনিয়োগই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এনে দেবে।

Advertisement

কিছু দরকারি তথ্য

এখানে কিছু জরুরি টিপস রইল যা আপনার হোটেলকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে:

১. কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন, বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি এবং গ্রাহক সেবার কৌশল সম্পর্কে, যাতে তারা সবসময় আপডেটেড থাকতে পারে।

২. তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন এবং কাজের পরিবেশে তাদের জন্য সম্মানজনক স্থান নিশ্চিত করুন, এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

৩. কর্মীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিন; এটি তাদের অনুপ্রাণিত করে এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ায়, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই ইতিবাচক।

৪. কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন; প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা সহায়তা প্রদান করুন, কারণ সুস্থ মনই ভালো কাজের জন্ম দেয়।

৫. নিয়োগের সময় শুধু দক্ষতা নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে চলার ক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিন, এতে দীর্ঘমেয়াদী সুসম্পর্ক তৈরি হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে

আজকের আলোচনা থেকে কিছু মূল বিষয় আমরা শিখলাম, যা যেকোনো আতিথেয়তা ব্যবসার জন্য সোনার মতোই মূল্যবান। আমার মনে হয়, এই ছোট ছোট বিষয়গুলো মাথায় রাখলে যেকোনো হোটেল বা গেস্ট হাউজ সাফল্যের নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে পারবে।

কর্মীরাই আপনার আসল শক্তি

আমার এতদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, একটি হোটেলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার কর্মীরা। গেস্টরা শুধু ভালো রুম আর খাবার চায় না, তারা চায় একটি উষ্ণ আতিথেয়তা এবং ব্যক্তিগত যত্ন। আর এটা একমাত্র হাসিখুশি, প্রশিক্ষিত আর অনুপ্রাণিত কর্মীরাই দিতে পারে। তাদের হাসি, তাদের সেবার মানসিকতাই আপনার হোটেলের সুনাম বাড়াবে। কর্মীদের অবহেলা করলে তার প্রভাব সরাসরি গেস্টদের ওপর পড়ে, যার ফলস্বরূপ ব্যবসা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তাই কর্মীদের ভালো রাখা মানেই ব্যবসাকে ভালোভাবে পরিচালনা করা, এবং এতে আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়ে। যখন কর্মীরা নিজেদের কাজের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে, তখন সেই ভালোবাসার ছোঁয়া গেস্টদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, যা একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

প্রশিক্ষণ আর প্রযুক্তির মেলবন্ধন

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ছাড়া কোনো ব্যবসা চিন্তাই করা যায় না। কিন্তু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার তখনই সম্ভব যখন আপনার কর্মীরা তা ব্যবহার করতে দক্ষ হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মীদের শুধু আত্মবিশ্বাসীই করে না, বরং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়ও প্রস্তুত করে। এআই বা ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো আধুনিক সরঞ্জাম মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে, তবে মানবিক স্পর্শ কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না। কারণ আতিথেয়তা শিল্প হলো মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ব্যবসা। মানুষের দক্ষতা এবং প্রযুক্তির সমন্বয়েই একটি শক্তিশালী টিম তৈরি হয়, যা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে এবং গ্রাহকদের সেরা সেবা দিতে সক্ষম হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

সন্তুষ্টির সঙ্গে ধরে রাখা

ভালো কর্মীদের খুঁজে বের করা যতটা জরুরি, তার থেকেও বেশি জরুরি তাদের ধরে রাখা। ভালো বেতন, উপযুক্ত কাজের পরিবেশ, ভালো কাজের স্বীকৃতি, এবং ক্যারিয়ারের উন্নতির সুযোগ – এই সবই কর্মীদের ধরে রাখার জন্য খুব দরকারি। যখন একজন কর্মী অনুভব করে যে সে একটি পরিবারের অংশ, তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন সে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে চায় না। এতে শুধু টার্নওভার কমে না, বরং টিমের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয় যা সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়। কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর রাখা দরকার, কারণ সুস্থ মনই সুস্থ কাজের জন্ম দেয়। তাদের জন্য কল্যাণের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকা উচিত, যা কর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের আনুগত্য তৈরি করে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: প্রযুক্তির এই যুগেও পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

উ: সত্যি বলতে কি, আজকাল সবকিছুতে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগলেও, আতিথেয়তা শিল্পটা fundamentally মানুষের স্পর্শ আর অনুভূতি দিয়েই চলে। আপনি যত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিই ব্যবহার করুন না কেন, গেস্টদের সাথে প্রথম যোগাযোগটা কিন্তু একজন মানুষেরই হয় – একজন হাসিমুখে থাকা রিসেপশনিস্ট, একজন সাহায্যকারী রুম সার্ভিস কর্মী, অথবা একজন আন্তরিক ওয়েটার। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একটা হোটেলে গেস্টরা শুধু আরামদায়ক বেড বা ফাস্ট Wi-Fi-ই খোঁজে না, তারা খোঁজে একটি উষ্ণ অভ্যর্থনা, তাদের ছোটখাটো সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান, আর এমন ব্যবহার যা তাদের মনে রাখে। এই জায়গাতেই মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভূমিকা অনন্য। একজন ভালো HR ম্যানেজার কর্মীদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেন, যাতে তারা শুধু কাজটা না করে, বরং হৃদয় দিয়ে গেস্টদের সেবা দিতে পারে। AI হয়তো বুকিং বা বিলিংয়ের কাজটা সহজে করে দিতে পারে, কিন্তু একজন গেস্টের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যে মানবিক গুণাবলী প্রয়োজন, সেটা একমাত্র একজন ভালো প্রশিক্ষিত কর্মীই দিতে পারে। এর ফলে গেস্টরা খুশি হয়, বারবার ফিরে আসে, আর মুখে মুখে আপনার হোটেলের সুনাম ছড়ায় – যা আদতে আপনার ব্যবসার লাভের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই, প্রযুক্তির পাশাপাশি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়, কারণ মানুষ মানুষকে চেনে আর বোঝে।

প্র: হোটেল কর্মীরা কিভাবে অতিথিদের সন্তুষ্টি এবং ব্যবসার সাফল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে?

উ: এই প্রশ্নের উত্তরটা আমার কাছে খুবই সহজ মনে হয়। ভাবুন তো, আপনি যখন কোনো হোটেলে যান, প্রথম এবং শেষ যে অভিজ্ঞতাটা আপনার মনে থাকে, সেটা কী? আমার মতে, সেটা হলো কর্মীদের সাথে আপনার ইন্টারঅ্যাকশন!
একজন কর্মী যদি সুন্দর ব্যবহার করেন, আপনার প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান, বা অপ্রত্যাশিতভাবে আপনাকে সাহায্য করেন, তাহলে সেই হোটেলের প্রতি আপনার একটা পজিটিভ ধারণা তৈরি হয়। আমি যখন বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাই, তখন দেখি যে হোটেলের কর্মীরা যত বেশি হাসিখুশি এবং কোঅপারেটিভ, সেই হোটেলের রিভিউ তত ভালো হয়। এর কারণ হলো, গেস্টরা নিজেদের বাড়িতে থাকার মতো আরাম অনুভব করে। এই মানবিক সংযোগের ফলেই তারা কেবল এক রাতের অতিথি থাকে না, বরং নিয়মিত কাস্টমারে পরিণত হয়। যখন একজন গেস্ট সন্তুষ্ট হয়, তখন তারা শুধু নিজেরা ফিরে আসে না, বরং তাদের বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সদস্যদেরও সেই হোটেলের কথা বলে। এই মৌখিক প্রচার (Word-of-Mouth) যেকোনো বিজ্ঞাপনের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। উল্টোদিকে, যদি কর্মীরা অদক্ষ বা রূঢ় হয়, তাহলে একজন গেস্টের অভিজ্ঞতা এতটাই খারাপ হতে পারে যে তারা আর সেই হোটেলে ফিরেই আসবে না, এমনকি অন্যদেরও সেখানে না যাওয়ার পরামর্শ দেবে। এর ফলে ব্যবসার রেপুটেশন নষ্ট হয় এবং সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই, কর্মীদের খুশি রাখা, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া আর তাদের কাজের পরিবেশ সুন্দর রাখাটা গেস্টদের সন্তুষ্টি এবং ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য অবিচ্ছেদ্য।

প্র: কর্মীদের ধরে রাখা এবং তাদের উন্নয়নে মানব সম্পদ বিভাগের কি ভূমিকা রয়েছে, বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে?

উ: সত্যি বলতে কি, কোভিড-১৯ এর পর থেকে হোটেল শিল্পে কর্মীদের ধরে রাখাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেকেই এই শিল্প ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মানব সম্পদ বিভাগের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের প্রধান কাজ হলো কর্মীদের শুধু নিয়োগ করা নয়, বরং তাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া। এর মধ্যে আছে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, নতুন দক্ষতা শেখানোর সুযোগ, এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করা। ধরুন, একজন কর্মী তার কাজ নিয়ে খুশি নন, বা তার কাজের চাপ খুব বেশি মনে হচ্ছে। একজন ভালো HR ম্যানেজার তখন তার সাথে কথা বলবেন, সমস্যাটা বুঝবেন এবং সমাধানের পথ বের করবেন। কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াটাও এখন জরুরি। ভালো ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স, ফেয়ার স্যালারি, এবং কাজের স্বীকৃতি – এই জিনিসগুলো কর্মীদের মোটিভেটেড রাখে এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বাড়ায়। আমি নিজে যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হই, তখন চাই আমার কাজটার মূল্য দেওয়া হোক, এবং আমার উন্নতি করার সুযোগ থাকুক। হোটেল কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যখন তারা দেখে যে ম্যানেজমেন্ট তাদের নিয়ে ভাবে, তখন তারা প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত হয়। এর ফলে কর্মীদের টার্নওভার কমে, নতুন কর্মী নিয়োগের খরচ বাঁচে এবং সবচেয়ে বড় কথা, অভিজ্ঞ কর্মীরা হোটেলে থাকলে গেস্টদের সেবা আরও উন্নত হয়। তাই, মানব সম্পদ বিভাগ কর্মীদের শুধু “মানব সম্পদ” হিসেবে দেখে না, বরং তাদের “মূল্যবান সম্পদ” হিসেবে বিবেচনা করে তাদের পরিচর্যা করে।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement